রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন
জঙ্গিবাদ ও ধর্মানুভূতির রাজনীতি: বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে
আপডেট: রবিবার, ১০ মে ২০২৬

বাঙালি মুসলমানের ধর্মানুভূতির বিষয়টি স্পর্শকাতর। যৌনাঙ্গের মতো অনুভূতিপ্রবণ। এমন অনুভূতি মুমিন মুসলমান পুরুষকে তাড়িত করে বেহেশতে গিয়ে ৬০ হুরের সঙ্গে যৌন সঙ্গমের অতৃপ্তি নিয়ে উল্লাসের খোশ আমদেদে উন্মত্ত হতে। আর নারী?

সেবাদাসী হিসেবে আদমের একাকীত্ব, পৃথিবীকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য করার অভিপ্রায় থেকেই সৌন্দর্য, রূপ, গন্ধে, যৌন আবেদনে দুর্বলতম এক সত্তা। শিল্পকলার নিপুণ সৌন্দর্যে প্রতিষ্ঠিত স্বর্গীয় বেহেশতেও নেই বহু পুরুষের ব্যবস্থা। অথচ সৌন্দর্যশিল্প নিয়ে প্রাগৈতিহাসিকভাবেই সত্য, নারী আছে বলেই পুরুষের স্বপ্নদোষ সমঝোতা বুঝে।

সম্প্রতি ৩০ এপ্রিলের বিবিসির একটি প্রতিবেদন বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এনেছে। সুখকর কোনো অনুভূতি নয়।

মুসলমানের পবিত্র গ্রন্থ আল কোরানের শপথ নিয়ে বেহেশতে যাওয়ার উন্মাদনায় মেতে উঠতে চাইছে একদল অনুভূতিপ্রবণ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী মানুষ। ধর্মানুভূতিপ্রবণ, যাদের চোখেমুখে খোদা তায়ালার দেখানো বেহেশতি নারীর প্রতি প্রবল যৌন লালসা দৃশ্যমান।

কিন্তু অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করে কি বেহেশতে যাওয়া যায়? এমন কিছু বিস্ময়বোধ তৈরি করে।

জঙ্গি হামলার মতো সবচেয়ে আলোচিত সর্বশেষ ঘটনা ২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয়। ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়কে কেন্দ্র করে একটু পেছনে ফেরা যাক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই যে দৃশ্যটি এ দেশের গণতান্ত্রিক, শান্তিপ্রিয় মানুষকে আবারও দেখতে হলো, একদল মানুষ লম্বা জোব্বা, টুপি পড়ে বেরিয়ে এলো হাতে কালেমা খচিত কালো পতাকা নিয়ে, “নারায়ে তাকবির” স্লোগান তুলছে রাজধানী ঢাকার প্রধান স্পটগুলোতে।

কিন্তু এবার তারা নিজেদের পরিচয় জানান দিলেও নজর এড়িয়ে গেল ভিন্ন কিছু। একদল বিশ্ববিদ্যালয়গামী, গৃহিণী এবং কর্মজীবী নারীদেরও দেখা গেল “নারায়ে তাকবির” স্লোগানে রাস্তায় দলবেঁধে বেরিয়ে আসতে। বেশ উগ্র, উন্মাদ এবং উন্মত্ত। এদের কারও পরিচয় শনাক্ত করা গেল না। আপাদমস্তক এ তপ্ত রোদের মধ্যেও কালো কাপড়ে ঢাকা। যেন সমস্ত শহরে যমটুপি পরে ঘুরছে।

এমন দৃশ্য দেখার পর দেশের সাধারণ মানুষ একটি রাষ্ট্রে চিৎকার করে কাঁদছে। মৃত্যুভয়। অপমৃত্যুর স্লোগান সারা শহরে উল্লাস করে বেড়াচ্ছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিশ্চয়ই এমন দৃশ্যের মঞ্চায়ন দেখতে চায় না। দেখতে চায় না অনুভূতিপ্রবণ কোনো নারী কালো কাপড়ের নিচে গ্রেনেড, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে নিকৃষ্টভাবে কাউকে হত্যা করুক। ধর্মের এমন অসততা, অপবিত্রতা থেকে এমন অনুভূতিপ্রবণ নারীদের ফেরানোর দায় রাষ্ট্র ও সমাজের।

এ নারীরা অবশ্যই ভেবে দেখবে, যে পুরুষেরা ইসলামী জঙ্গিবাদের নামে এমন নারীদের জিহাদে পাঠিয়েছে। যে স্রষ্টার আরাধ্য তারা চায়, সে স্রষ্টা (আল্লাহ) নিজেও একজন জুয়াড়ি, যিনি পুরুষকে বেহেশতে দিতে চান অসংখ্য যৌন দাসী এবং হেরেমখানা। আর নারী?

টোটাল পোস্ট : 1