মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার, গণতন্ত্রের সংকট এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উত্থান নিয়ে একটি প্রতীকধর্মী কোলাজ
ঐতিহাসিক ১৯৭১ থেকে ২০২৪—একটি স্বাধীন মানচিত্র অর্জন এবং গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে বিপ্লবীদের আত্মাহুতির ইতিহাস। সার্বভৌম এ দেশের গত ৫৬ বছরের অর্জন আসলে কী?
কিছুদিন পূর্বেও বর্তমান এ প্রজন্মের এক অসীম আত্মত্যাগের নির্মোহ স্মৃতি ছিল। শত শত বুলেটে রক্তাক্ত লাশের সারি আর পুলিশের প্রিজন ভ্যানে পুড়ে যাওয়া কাঁচা মাংসের উটকো গন্ধ। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীসহ দেশের অপামর জনসাধারণ যে প্রত্যাশা আগামীর নতুন একটি বাংলাদেশের জন্য দেখেছিল, এমন স্বপ্ন কারা ধুলিসাৎ করল?
একটি অভ্যুত্থানের পর জন্ম নেওয়া তরুণদের রাজনৈতিক দল এনসিপিও জামায়াতের বীর্যে নিজেদের জন্মপরিচয়ের ডিএনএ নিশ্চিত করল। নিজের মা-বোনদের জামায়াতের নেতাদের কাছে যৌন উল্লাসের জন্য ইজারা দিতে নিজেদের সম্মতি প্রকাশ করল। যেভাবে নবী মুহাম্মদ নিজের পালিত পুত্র যায়েদ ইবনে হারিছের স্ত্রী জাহশকে নিজ স্বামীর সঙ্গে তালাক করিয়ে নিজে বিয়ে করেন। নিজের যৌন লালসার বলি করেন ২৩–২৬ বছরের এ তরুণীকে।
১৯৭২-এ নিষিদ্ধ এ জামায়াতের নেতাদের পুরুষাঙ্গ, দাঁড়ি ও পাঞ্জাবিতে এখনও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে ধর্ষিতা নারীদের সম্ভ্রম। এ ইতিহাস অবশ্যই বর্তমান প্রজন্মের অজানা নয়। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও দেখা যায় ধর্মান্ধ উগ্র মৌলবাদী জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক এবং নৈতিক সহাবস্থানে। একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হয়ে তিনিও জাতীয় সংসদে অবস্থান নেওয়া জামায়াত নেতাদের ধর্ষণের বৈধতা দিলেন। রাজনৈতিক স্বার্থের প্রয়োজনে তারেক রহমান হয়তো জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান (চুম্মা) শফিকের সঙ্গে সমকামিতায় লিপ্ত হতেও কুণ্ঠাবোধ করবেন না। এমন অবস্থান নিঃসন্দেহে লজ্জার।
৯১% সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশটিতে যত না মানুষ ধর্মভীরু, এর চেয়ে বেশি ধর্মান্ধ। এ কারণেই স্বাধীনতার দীর্ঘ একটি সময় পরেও ধবধবে সাদা দাঁড়ি-টুপি পরিহিত জামায়াত আমির শফিকুল ইসলামের মতো একদল চার্লস ডারউইনের তত্ত্বের আদিম, বিবর্তনহীন বানরের প্রজন্মকে জাতীয় সংসদে নিকৃষ্ট জাতিসত্তার নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। এবং এ প্রজন্ম প্রশ্নহীনভাবে এসব মেনে নিচ্ছে।
