ধর্ম (Religion) আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে একটি আতঙ্কের কারণ। পঁচিশ থেকে চল্লিশ হাজার বছর পূর্বে প্রজাতির জাতিসত্তার অজ্ঞতা, মূর্খতা এবং কল্পনাপ্রসূত অসহায়ত্বের মধ্য দিয়েই ধর্মের বিকাশ ও উৎপত্তি। ঈশ্বর, আল্লাহ, ভগবান এবং বহুত্ববাদে বিশ্বাসী জনগোষ্ঠী স্ব স্ব ধর্মীয় রীতিতে কখনো কখনো আত্মোৎসর্গও করে। এমন সব স্রষ্টার উপাসনা ধর্মবিশ্বাসী মানুষরা করছে, যে স্রষ্টারা যৌন উত্তেজনায় ভোগেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত হন, একাধিক বিয়ে করেন, কখনো নিরাকার; স্রষ্টাকে কেউ সৃষ্টি করেনি—এমন সব অলৌকিক ধ্যানধারণা।
বর্তমান আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলাম ধর্মের কথাই ধরা যাক। আল-কোরআনে বলা হয়েছে: “বলুন, তিনি (আল্লাহ) জন্ম দেননি এবং জন্মগ্রহণও করেননি। এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।” (সূরা ইখলাস ১১২:২)
এমন কল্পনাপ্রসূত বয়ানের মধ্য দিয়েই মূর্খ নবী মুহাম্মদের ওপর নাজিল হয় স্রষ্টার বাণী। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রায় চৌদ্দশত বছর ধরে মুসলমানেরা নবী মুহাম্মদকে বিশ্বাস করে যে স্রষ্টার প্রতি ঈমান আনছে, জিহাদ করছে, স্বীয় গোত্রের মানুষকে কাফির আখ্যা দিচ্ছে, ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ এবং খেলাফত প্রতিষ্ঠার নামে মানুষ হত্যা করছে কাফের-মুশরিক আখ্যা দিয়ে; সে আল্লাহ আসলে কে? সে আল্লাহ কি আরও প্রজননের ফলে জন্ম? অথবা মুসলমান যে ধর্মের দাওয়াত দিচ্ছে, এসব অযৌক্তিক বিশ্বাস কোন ভিত্তির ওপর একজন মানুষ অবিশ্বাসী থেকে বিশ্বাসী হয়ে উঠবে?
প্রকৃত অর্থে ইসলামে যে স্রষ্টার ধারণা, এটি ইন্দ্রিয়প্রসূত। কথিত নবী মুহাম্মদ নিজ স্থানে থেকেই স্বীয় অবস্থানের ওপর নির্ভর করেই নিজের লিঙ্গ, শরীর এবং সীমাবদ্ধ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতেই নিরাকার স্রষ্টা (আল্লাহর) ধ্যানধারণা প্রবর্তন করে। সে সময়কার নবী মুহাম্মদের নেতৃত্বে সংঘটিত আরবের যুদ্ধগুলোর বিজয়ের পরবর্তী পরিস্থিতিই বলে দেয় যুদ্ধের উদ্দেশ্য। নবী মুহাম্মদ যুদ্ধে বন্দী নারীদের মালিকানাধীন দাসী (মা মালাকাত আইমানাকুম) হিসেবে গণ্য করেছিলেন। এবং তাদের গণিমতের মাল হিসেবে প্রবল যৌন লালসা নিবৃত্ত করতে ব্যবহার করা হতো।
উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, প্রথম স্ত্রী খাদিজার সঙ্গে ২৫ বছর বিবাহিত জীবনের অবসানের পর, যখন খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ মারা যান, এরপর থেকেই নবী মুহাম্মদের যৌনতার জীবন শুরু হয়। খাদিজা ছিলেন মক্কার একজন অত্যন্ত সম্মানিত ও ধনী ব্যবসায়ী নারী। মুহাম্মদের সঙ্গে বিবাহের সময় তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ। কিন্তু খাদিজার কাছে যৌন তৃপ্তি না পেলেও, বিবাহ করার মতো সক্ষমতা দরিদ্র মুহাম্মদের ছিল না। খাদিজার ইন্তেকালের পরেই নবী মুহাম্মদ একে একে বিধবাসহ নারীদের অসহায়ত্বের সুযোগ এবং ধর্মের দোহাই দিয়ে ১১টি বিয়ে করেন। এসব বিয়ের পেছনে সামাজিক, রাজনৈতিক এবং মানবিক কারণের ব্যাখ্যা করা হলেও, তা মূলত ছিল ভণ্ড নবী মুহাম্মদের যৌনতার লালসা।
ধর্ম বিষয়টি এভাবেই যুগে যুগে অজ্ঞ, মূর্খ সমাজে বিভিন্ন ব্যক্তিবিশেষের স্বীয় ইচ্ছা, কামবাসনা, অভিপ্রায় এবং প্রভাব বিস্তারে কাজ করেছে। প্রকৃত অর্থে ধর্ম এমন এক ধারণা, যার স্রষ্টাদের আদৌ কোনো অস্তিত্ব নেই। আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মানুষ যুক্তিবাদ, বৈজ্ঞানিক মনন, মানবিক মূল্যবোধ এবং স্বাধীন চিন্তার বিকাশে বিশ্বাসী; অন্ধ বিশ্বাসে নয়।

