যৌনতা প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং মৌলিক চাহিদা। এটি ছাড়া যে মানুষ ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারে না, তা ঠিক কতটুকু বুঝে ও উপলব্ধি করে বাঙালি মুসলমান সমাজব্যবস্থা?
বাঙালি মুসলমান সমাজের ওপর নবী মুহাম্মদের দেখানো সহবাস করার সুন্নত পদ্ধতি ঝেঁকে বসে আছে। একই সঙ্গে নবী মুহাম্মদের তৈরি করা বিবিধ অবদমনমূলক, পীড়নমূলক এবং ভিন্ন যৌন পরিচয়ের মানুষদের নিজস্ব পরিচয়ে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার হুমকিও রয়েছে। ধর্মীয় নিয়ম-নীতিকেই যেখানে জোরপূর্বক শেষ কথা হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
ইসলাম ধর্মের এইসব কালা নিয়ম-কানুনের শেকলগুলো একটি প্রগতিশীল সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার ধারণাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে।
বাংলাদেশের সমাজে রাজনীতি, ধর্ম এবং যৌনতা একটি শক্তিশালী অধ্যায়। এদের মধ্যে যৌনতা, অর্থাৎ যৌন পরিচয়, প্রাকৃতিকভাবে আরোপিত। যেখানে রয়েছে এলজিবিটিকিউ+–এর ভিন্ন ভিন্ন যৌন পরিচয়ের মানুষ।
ধর্ম ও রাজনীতির ধারাবাহিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে নিয়ন্ত্রিত হয় যৌন পরিচয়ের মানুষের জীবনধারা। কিন্তু বাংলাদেশে রয়েছে মুসলমানদের পবিত্র ধর্ম ইসলামকে কেন্দ্র করে মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থা। এখানে রাজনীতিরও নিয়ন্ত্রক, অনেক ক্ষেত্রে, ধর্ম।
ধর্ম এ দেশের সমাজে মানুষের যৌন আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকি রাষ্ট্রের আইনও। মানবাধিকার আসলে কোথায়?
শুধুমাত্র ভিন্ন যৌন পরিচয়ের কারণে গে, লেসবিয়ান, সমকামী, উভকামী ও ট্রান্সজেন্ডারদের মতো স্বাভাবিক বিষয়গুলো ধর্মের ছাগলের দাড়ি-টুপিওয়ালা শুকরেরা বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে আপত্তিকর উগ্রবাদী বক্তব্যের মাধ্যমে হত্যাযজ্ঞে পরিণত করে তোলে। সাধারণ জীবনযাপনের অধিকারকেও কেড়ে নেয়।
যৌনতা একটি রহস্য। একজন মানুষের জীবন ও যৌনতা সমান্তরালে চলে। যৌনতার স্বাভাবিক গতি কখনো ধর্ম দিতে পারে না। রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক কোনো ধর্ম হতে পারে না। এবং আইনগত কাঠামোর যেসব ব্যত্যয় রয়েছে, ৩৭৭ ধারার মতো, যেখানে সমলিঙ্গের কিছু সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, এগুলো বাতিলযোগ্য। যেখানে মানবাধিকারের প্রশ্ন জড়িত।
যৌন পরিচয় এবং এর স্বাধীনভাবে উপভোগ, চর্চা—এমন সব বিষয়গুলো মনের পর্দার মতো, যার অন্তরালে মানুষের একটি স্ফূর্ত জীবনের গল্প লুকিয়ে থাকে। রাষ্ট্রব্যবস্থায় তাই সকল ধরনের ধর্মের নিষিদ্ধকরণ প্রয়োজন, এবং কোনো ধর্মই যেন নিয়ন্ত্রক হয়ে না ওঠে।
