বাংলাদেশের আবাসিক মাদ্রাসা, পারিবারিক পরিবেশ এবং শ্রমনির্ভর আনুষ্ঠানিক/কর্মপরিবেশে শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতা বেশ উদ্বেগের। এসব যৌন সহিংসিতার ঘটনাগুলোকে ঘিরে অদৃশ্য নিরবতা, ক্ষমতার কাঠামো এবং ভুক্তভোগীদের ভয়ের সংস্কৃতি রয়েছে।
বাংলাদেশে শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতা একটি সামাজিক ও মানবাধিকার সংকট।
এ ধরনের সহিংসতা কেবল অপরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে ঘটে না; বরং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক মাদ্রাসা এবং কর্মক্ষেত্র—যেখানে শিশুদের নিরাপদ থাকার কথা—সেখানেই এর ব্যপ্তি।
বাংলাদেশে আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে নাবালক শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। প্রায়ই দেখা যায়, শিক্ষক, সুপার, হোস্টেল তত্ত্বাবধায়ক বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
অনেক শিশু বছরের পর বছর এসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যৌন নির্যাতনের শিকার হলেও ভয়, সামাজিক চাপ এবং প্রতিষ্ঠানের প্রভাবের কারণে অভিযোগ করতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার শিশু পালানোর চেষ্টা করলেও শারীরিক নির্যাতনের মুখে পড়ে।
ধর্মীয় প্রভাবের কারণে এসব বেশিরভাগ ঘটনার তথ্য প্রমান মিললেও এর কোন বিচার হয় না। মাদ্রাসাগুলো বর্তমানে যৌন নির্যাতনের সুন্নতি হেরেমখানায় পরিণত হয়েছে। এবং বেশিরভাগ অভিযোগই বেশ গুরুত্বর। একই সাথে এসব মাদ্রাসা থেকে জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থারও বিস্তৃতি ঘটছে বেশ আশংকাজনকভাবে। জঙ্গিবাদ তৈরির এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
বাংলাদেশে শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হিসেবে পরিবারকে বিবেচনা করা হলেও বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (MJF) ও INCIDIN Bangladesh-এর জাতীয় জরিপের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, ৯৫.৮ শতাংশ শিশু জীবনের কোনো না কোনো সময়ে পরিবারে বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া শিশুদের ৫৫ শতাংশ জানিয়েছে, তারা পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। একই জরিপে দেখা যায়, লজ্জা, ভয় এবং পরিবারের প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় অধিকাংশ শিশু এ ধরনের ঘটনা কাউকে জানায় না.
(সুত্রঃ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড)
এসব ঘটনা বন্ধে শিশু সুরক্ষা আইনের কঠোর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বাধীন অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্র উন্মুক্তকরণ এবং তদন্ত ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা প্রয়োজন। বাংলাদেশের মাদ্রসার মত প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশু বলাৎকারের মত নৃশংস ঘটনাগুলোকে শুধুমাত্র ধর্মীয় বিবেচনায় না রেখে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যায় যে ইসলাম নৈতিকতার শিক্ষা দেয়, সে সব ইসলাম চর্চার কেন্দ্র মাদ্রাসাতেই কেন এসব শিশুদের যৌন নিপীড়নের ঘটনা?
নবী মুহাম্মদের ৬ বছরের শিশু আয়েশাকে বিয়ের নামে ধর্ষণ সহ ইসলামের খলিফা উমরের হযরত আলী-এর ১১ বছরের শিশু কন্যা উম্মে কুলসুমকে বিয়ের নামে যৌন নির্যাতনের ইতিহাস রয়েছে। ধর্ম কখনো তাই এসব যৌন নির্যাতনের বিষয়ে সুরক্ষা দিতে পারে না।
মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক সারা দেশজুড়ে শিশু ধর্ষণে নেমেছে। তাঁরা কোথাও শিশুকে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে দিবে না। শিশুরা মানুষিকভাবে অসুস্থ হতে শুরু করবে। তারাও ধর্ষণ, বর্বরতা ও বীভৎসতা শিখবে। দেশ অচিরেই পরিণত হবে ধর্ষনাগারে।
